• CINNAMON INT'L
  • Bangladesh Malaysia Study Centre Ltd (BMSCL)
  • NIFT | NIET | NPI | Sonargaon University Admission
  • IST | Admission Going On
  • Top of Home Page | 6
  • Master Education
  • call for advertisement
  • Good Luck Ball Pen

ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের শিক্ষা-ভ্রমন

Online Desk | December 03, 2016
ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষা-ভ্রমন

ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষা-ভ্রমন

মান সম্মত শিক্ষায় ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। পড়াশোনার পাশাপাশি এখানে শিক্ষার্থীদের মানসিক উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে সহ শিক্ষা কার্যক্রম এর উপর সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এটাকে সামনে রেখেই ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ কালচারাল ক্লাব, এ্যডভেঞ্চার ক্লাব, ডিবেটিং ক্লাব, ফটোগ্রাফী এন্ড মিডিয়া ক্লাব ও স্পোর্টস ক্লাব ইত্যাদি প্রতিষ্ঠা করেছে। এ্যডভেঞ্চার ক্লাব প্রতি সেমিস্টারে শিক্ষার্থীদের নিয়ে দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানসমূহ ভ্রমন করে আসছে।

এই ধারাবাহিকতায় গত ২৭শে নভেম্বর ৮০ জন শিক্ষার্থী ঢাকা থেকে ২০০ কি.মি. উত্তর-পূর্বে অবস্থিত শ্রীমঙ্গলের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। শ্রীমঙ্গল বস্তুত একটি নৈষর্গিক অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি। এখানে ৪৭টি চা বাগান রয়েছে। বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের চায়ের একটি বড় অংশ এখানে জন্মায়। এছাড়া শ্রীমঙ্গলকে দু’টি পাতা ও একটি কুড়ি’র শহর বলা হয়। শ্রীমঙ্গলে মনিপুরি, খাশিয়া ও টিপরা সম্প্রদায়ের লোকজন বসবাস করে। এদের জীবনযাপন ও ঐতিহ্য সবাইকে আকর্ষণ করে থাকে। এরা তাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের জন্য বিখ্যাত। প্রতি বছর নভেম্বর মাসে এখানে রাস-মেলার আয়োজন করা হয়। তাই এ সময়ে দেশী-বিদেশী পর্যটকের ঢল নামে এ উৎসবে।

আমাদের এই ভ্রমনের প্রথম দিনের গন্তব্য ছিল হবিগঞ্জ জেলার চুনাড়-ঘাট উপজেলায় অবস্থিত সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান। এখানে উঁচু-নিচু টিলার বাঁকে বাঁকে সবুজের সমারোহ। চা বাগানের অভ্যন্তরে শ্রমিকরা দল বেঁধে বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করছে। কেউ চা বাগানের পরিচর্যা করছে, কেউ চা তুলছে, কেউ বা শুকনো ডাল-পালা কুড়াচ্ছে। পাহাড়ের ঢালুতে বোনা গাছের ছায়া বৃক্ষ হিসেবে লাগানো হয়েছে শিল কড়াই। চা বাগানে মাঝে মাঝে পাখির ডাক, বুনো প্রজাপতি ও ঘাসফড়িঙের দুরন্তপনা ইত্যাদি অবারিত সৌন্দর্য এখানকার মায়াবী প্রকৃতিকে আরো আকর্ষনীয় করে তুলেছে।

সাতছড়ি থেকে আমরা ফিনলে’র চা বাগানে বেড়াতে যাই। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চা বাগান এটি। জেমস ফিনলে ২৫০ বছরের পুরোনো স্কটিশ কোম্পানী। ১৯ শতকের শেষের দিকে বিশ্বের এ অংশে চা শিল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপিত হয়। ফিনলে টি গার্ডেনের উল্টো পাশে অবস্থিত বাংলাদেশ চা গবেষণা ইন্সটিটিউট এর প্রধান কার্যালয়। ১৯৫৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারী এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে ফলনশীলতা ও গুণগত মান বৃদ্ধি, চা শিল্পের উন্নয়ন ও উৎকর্ষে বিজ্ঞান ভিত্তিক পরামর্শ ও সহায়তা দান, চা শিল্পে গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি বিস্তার করাই এ প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য। উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞান চা শিল্পের অগ্রগতি ও উন্নয়নে এই প্রতিষ্ঠানটি অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে।

শিক্ষা সংক্রান্ত খবরাখবর নিয়মিত পেতে রেজিস্ট্রেশন করুন অথবা Log In করুন।

Account Benefit
আমরা মধ্যাহ্ন ভোজের জন্য শ্রীমঙ্গল শহরে কুটুমবাড়ী রেস্টুরেন্টে যাই। বড় শহরের রেস্টুরেন্টের সৌন্দর্যের সাথে মিল রেখে তৈরী করা হয়েছে ভেতরের সাজসজ্জা। মনোরম ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশের পাশাপাশি মজাদার সব উপাদেয় খাদ্যে সাজানো ছিল দুপুরের আয়োজনে।

দুপুরের খাবারের পর আমরা দ্বিতীয় গন্তব্যস্থলে যাত্রা শরু করি। লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্ক মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় ২৭৪০ হেক্টর জমির উপর অবস্থিত। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ সরকার এটিকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করে। উঁচুনিচু ভঙ্গুর পথ পেরিয়ে উদ্যানে যেতে হয়। রাস্তার দু’ধারে নাম না জানা হরেক রকমের গাছ। অরন্য নিস্তব্ধতার মাঝে পাখির কাকলি ও বুনো সৌন্দর্যের হাতছানি প্রত্যক্ষ করি।

এখানকার পরিবেশ শান্ত স্নিগ্ধ। এ যেন শিল্পীর তুলিতে ক্যানভাসে আঁকা মায়াবী প্রকৃতি দিয়ে ঘেরা ছবি। লাউয়াছড়া’র আসে পাশে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান সম্প্রদায় এর পাশাপাশি বিভিন্ন উপজাতীয় সম্প্রদায় বসবাস করে। পড়ন্ত বিকেলে শিক্ষার্থীদের সাত রঙের চা খাওয়ার বাসনা পূরণ করার জন্য উদ্যানের ভেতর উঁচু টিলাতে ‘সাত কালার চা কেবিনে’ প্রবেশ করি। চা কেবিনে প্রতি কাপ চা সত্তর টাকা। যদি আপনি চার রঙের চা পান করতে চান, তবে আপনাকে দিতে হবে ৪০ টাকা। কেবিনের পাশ দিয়ে রেল পথ সিলেটের দিকে চলে গেছে। লাউয়াছড়াতে রয়েছে ৪৬০ প্রজাতির স্থানীয় পাখি, হরিণ, বন-মোরগ, কাঁঠবিড়ালী ও অজগর। বনজ সম্পদের মধ্যে বাঁশ, বেত, আকাশমনি, আগর, গর্জন, চাপালিশ, মেহেগনি, কৃষ্ণচুড়া, ডুমুর, জামরুল, জারুল এবং ইউক্যালিপটাস অন্যতম।

দেখতে দেখতে সময় ফুড়িয়ে এলো। পশ্চিমের আকাশে গোধুলী’র রঙ আস্তে আস্তে ফিকে হতে শুরু করেছে। রক্তিম সূর্য আর আবির মাখানো পশ্চিম আকাশটাকে পেছনে ফেলে গাড়ী সামনের দিকে এগুতে লাগলো। আকাশে অসংখ্য তারা, চারদিকে জমাট অন্ধকার।
More detail about
World University of Bangladesh

  • call for advertisement
Submit Your Comments:
  • Career @ Edu Icon
  • call for advertisement